সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতা আজাদ মিয়া হত্যার দ্রুত ন্যায়বিচার চাই পণাতীর্থে লাখ লাখ পুণ্যার্থীর ঢল শাল্লায় ‘সমন্বয়কের পিআইসি’ : ফসলহানির ঝুঁকির সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, শঙ্কায় কৃষক জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল

আমনের বাম্পার ফলন, ধানের দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

  • আপলোড সময় : ০৬-১২-২০২৫ ০৩:৫২:৫৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৬-১২-২০২৫ ০৬:৫৪:২৫ পূর্বাহ্ন
আমনের বাম্পার ফলন, ধানের দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
শহীদনূর আহমেদ::
দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে সোনালী ধানের নাচন। শীতের হাল্কা কুয়াশা আর অগ্রহায়ণের রোদ গায়ে মেখে ধানের গোছাগুলো হয়ে উঠেছে কৃষকের হাসির প্রতিচ্ছবি।
সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে আমন ধান কাটা, মাড়াই ও শোকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। রোপা আমনের বাম্পার ফলনে জেলার চাষীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও ধানের দাম নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। বিঘা প্রতি ১৫-২০ মণ ফলন হলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশ জেলার আমন চাষীরা। উৎপাদন ব্যয় মিটিয়ে লাভবান হওয়া যাবে না বলে জানান তারা। স্থানীয় পর্যায়ে ধানের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
আমন চাষীরা জানান, অনুকূল আবহাওয়া ও সময়ে সময়ে বৃষ্টিপাত এবং পোকার আক্রমণ না হওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আমনের ফলন ভালো হয়েছে। বিঘা প্রতি গড়ে ১৫-২০ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে। তবে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানে এর চেয়ে বেশি ফলন পাচ্ছেন চাষীরা। মাঠ পর্যায়ের একাধিক চাষী জানান ধানের আশানুরূপ ফলনে খুশি হলেও ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

কৃষকরা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ধানের দাম অনেক কম। সরকারিভাবে ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হলেও সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা উৎপাদনের তুলনায় অনেক কম থাকায় হতাশ তারা। এতে উৎপাদন ব্যয় মিটিয়ে তেমন কিছু থাকছে না।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবানগরের কৃষক ছমির উদ্দিন বলেন, এবার যে ধান হইছে তা আর কোনো সময় হয়নি। ধানের ফলন বেশি হওয়ায় আমরা খুশি। তবে ময়ালের ধানের দাম কম। হাজার টাকা মণে ধান কিনছেন পাইকাররা। এই দামে ধান বিক্রি করলে ফরতায় পড়ে না।
কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, ধারদেনা করে জমি চাষ করি। এখন জমির চাষের খরচ বেশি। ধানের দাম ভালে থাকলে আমরা বাঁচি। না হইলে খরচ আর উৎপাদনে সমান হয়ে যায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় রোপা আমনের চাষ হয়েছে ৮২ হাজার ৬৫৬ হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা চালের দিক দিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৯৯৭ মেট্রিকটন। ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানান

অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক। ধানের ফলনে চালের বাজারে প্রভাব পড়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার আবহাওয়া ভালো ছিলো। তাই ফলন ভালো হয়েছে। ফলন ভালো হলে স্বাভাবিকভাবে চালের বাজারে প্রভাব পড়বে। প্রথম দিকে ধানের দাম কম থাকলেও ধীরে ধীরে বাজার ঊর্ধ্বমুখী হবে। সরকারিভাবে ধানের মূল্য নির্ধারণে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, এবার সুনামগঞ্জে আমনের আশানুরূপ ফলন হয়েছে। বা¤পার ফলনে জেলার কৃষকদের মধ্যে স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এবার সুনামগঞ্জে সরকারিভাবে আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৬২ মেট্রিক টন। লটারির মাধ্যমে ১৩৬০ টাকা দরে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছে খাদ্য বিভাগ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স